ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস খোলার নিয়ম ও লাভের হার
ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস খোলার নিয়ম ও লাভের হার নিয়ে অনেকেই আসলে পরিষ্কার ধারণা পায় না। কেউ ভাবে জটিল, কেউ আবার দ্বিধায় পড়ে যায় কিন্তু সত্যিটা একটু ভিন্ন। আজকাল ঘরে বসেই খুব সহজে DPS খোলা যায়, শুধু সঠিক নিয়মটা জানা দরকার।
এখানে আপনি ধাপে ধাপে জানতে পারবেন কীভাবে অ্যাকাউন্ট খুলবেন, কী কাগজ লাগে আর কতটা লাভ পাওয়া যায়। ছোট ছোট মাসিক সঞ্চয় কীভাবে বড় টাকায় বদলে যায়-এই হিসাবটা অনেকেই অবাক হয়ে দেখে। শেষে গিয়ে মনে হবে, “ইশ আগে জানলে ভালো হতো!”
পেজ সূচিপত্রঃ ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস খোলার নিয়ম ও লাভের হার
- ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস খোলার নিয়ম ও লাভের হার
- ইসলামী ব্যাংকের মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস (পেনশন) অ্যাকাউন্ট কী?
- ডিপিএস খোলার জন্য কী কী যোগ্যতা ও কাগজপত্র লাগবে?
- মাসিক কিস্তির পরিমাণ এবং মেয়াদ কত হতে পারে?
- ২০২৬ সালে ইসলামী ব্যাংক ডিপিএস-এ লাভের হার কেমন?
- মেয়াদ শেষে কত টাকা পাবেন-কিছু উদাহরণসহ হিসাব
- আগেভাগে টাকা তুললে কী নিয়ম?
- ঘরে বসে সেলফিন অ্যাপে ডিপিএস খোলার উপায়
- ইসলামী ব্যাংক ডিপিএস-এর সুবিধাগুলো কী কী?
- শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস খোলার নিয়ম ও লাভের হার
ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস খোলার নিয়ম ও লাভের হার জেনে নিন, ইসলামী ব্যাংকের সেলফিন
অ্যাপ দিয়ে ডিপিএস (মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস বা পেনশন অ্যাকাউন্ট) খোলা এখন
সত্যিই খুব সোজা ব্যাপার বা শাখায় গিয়েও খুলতে পারেন। ঘরে বসে মোবাইলেই সব হয়ে
যায়, কোনো শাখায় যাওয়ার দরকার নেই। আমি যেভাবে অফিসিয়াল তথ্য আর ইউজারদের
অভিজ্ঞতা দেখে বুঝেছি, সেটা এখানে বুলেট করে সহজ ভাষায় লিখে দিচ্ছি। ধাপগুলো ফলো
করলে কোনো ঝামেলা হবে না।
প্রথমে গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপল স্টোর থেকে "Cellfin" অ্যাপটা ডাউনলোড করে নিন।
ইসলামী ব্যাংকের অফিসিয়াল অ্যাপ নিচের ইমেজ এর মত।
তারপর অ্যাপটি ওপেন হলে নতুন করে একাউন্ট খোলার জন্য "Register" এ ক্লিক করুন।
এরপর রেজিস্ট্রেশন ফ্রম বাংলাদেশ সিলেক্ট করুন। নিচের মত করে।
এরপর "NID" অপশনে ক্লিক করুন।
এরপর মোবাইল নাম্বার দিন এবং ৬ ডিজিট এর সেলফিন পিন দিন ও আপনার অপারেটর সিলেক্ট
করুন। যেমন গ্রামীনফোন তারপর নিচের মত রেজিস্টার এ ক্লিক করুন।
আপনার দেওয়া নাম্বারে একটি "OTP" আসবে সেটি নিচের ইমেজ এর মত বসিয়ে "Submit" এ
কিক্ল করুন।
এর পরের ধাপে আপনার "NID" বা জাতীয় পরিচই পত্রের সামনের এবং পিছনের অংশের ছবি তুলে
আপলোড করুন।
আপলোড করা হলে এমন দেখাবে নিচে "Confirm Upload" এ ক্লিক করুন।
আপনার এন,আই,ডি এর তথ্য অনুযায়ী আপনার সকল ইনফরমেশন দেখা যাবে। এখানে শুধু আপনার
পার্মানেন্ট অ্যাড্রেস ও আপনার পেশা সিলেক্ট করে বসিয়ে দিন ও নেক্সট চাপুন।
এবং আপনার একটি নিজের চেহারার ছবি সেলফি তুলে আপলোড করুন।
"Confirm Upload" এ ক্লিক করার পর নিচে নাম ও আপনার ই-মেইল দিয়ে নেক্সট এ ক্লিক
করুন।
এর সব ঠিকঠাক থাকলে "Successfull" দেখাবে ও নিচে "Login" দেখতে পাবেন।
এর পর লগিন মেনু আসবে এখানে আপনার রেজিস্টারেড মোবাইল নাম্বার ও পিন দিন এবং লগিন এ
ক্লিক করুন
নিচের মত সেলফিন অ্যাপের ড্যাশবোর্ড আপনার সামনে চলে আসবে।
এরপর একাউন্ট "Open A/C" তে ক্লিক করুন
এরপর নিচের ইমেজ এর মত আপনার সেলফিন পিন নম্বর দিয়ে সাবমিট করুন।
নিচের ইমেজের মত মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস (পেনশন) অ্যাকাউন্ট সিলেক্ট করুন।
এরপর নিচের ফ্রমে আপনার সব ইনফরমেশন একে একে দিন এবং নমিনির এন,আই,ডি ও সদ্য তোলা
ছবি দিয়ে নেক্সট এ ক্লিক করুন। ফর্ম পূরণ করে ওটিপি দিয়ে কনফার্ম করুন। সাধারণত
কয়েক মিনিটের মধ্যে অ্যাকাউন্ট অ্যাকটিভ হয়ে যায় আর আপনি ডিপোজিট কার্ডের মতো
ভার্চুয়াল অপশন পেয়ে যাবেন।
এভাবে করলে পুরো প্রক্রিয়াটা ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে শেষ হয়ে যায়। তবে সবচেয়ে
ভালো হয় অ্যাপের লেটেস্ট ভার্সন ব্যবহার করা আর নিজের এনআইডি তথ্য সঠিক রাখা।
যদি কোনো ধাপে আটকে যান, তাহলে নিকটস্থ শাখায় একবার ফোন করে নিন-তারা সাহায্য
করবে। এটা আসলে অনেকের জন্য সময় বাঁচানোর দারুণ উপায়।
ব্যাংকে ডিপিএস খোলা আসলে খুব সহজ একটা প্রক্রিয়া। এটাকে তারা
মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস (পেনশন) অ্যাকাউন্ট বলে, যেখানে প্রতি মাসে একটা
নির্দিষ্ট কিস্তি জমা করতে হয় আর মেয়াদ শেষে মূল টাকার সঙ্গে মুনাফা পাওয়া
যায়। এটা শরিয়াহ অনুসারী স্কিম, অর্থাৎ সুদের বদলে ব্যাংকের বিনিয়োগ থেকে
আসা লাভ শেয়ার করা হয়। যে কোনো বাংলাদেশী নাগরিক ১৮ বছর বয়স হলে নিজের
নামে খুলতে পারেন, আর অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য অভিভাবক খুলতে পারেন। শাখায়
গিয়ে বা সরাসরি Cellfin অ্যাপ দিয়েও খোলা যায়, তবে সাধারণত শাখায় গেলে
সবকিছু ঝামেলামুক্ত হয়।
খোলার নিয়মগুলো একটু বিস্তারিত বলিঃ
- প্রয়োজনীয় কাগজপত্রঃ দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি (আপনার), এনআইডি বা পাসপোর্টের কপি, নমিনির ছবি ও তার আইডি কপি, আর ঠিকানা যাচাইয়ের জন্য বিদ্যুৎ বিল বা অনুরূপ কোনো কাগজ। টিন সার্টিফিকেট থাকলে ভালো, কারণ ট্যাক্স কম লাগে।
- কিস্তির পরিমাণঃ মাসিক সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে ৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত (৫০০ টাকার গুণিতক হতে হবে)।
- মেয়াদের অপশনঃ সাধারণত ৩ বছর, ৫ বছর বা ১০ বছরের মধ্যে বেছে নিতে পারবেন।
- জমা দেয়ার সময়ঃ প্রতি মাসের ১০ তারিখের মধ্যে কিস্তি জমা দিতে হয়। শাখা, এজেন্ট ব্যাংকিং, ইন্টারনেট ব্যাংকিং বা অ্যাপ দিয়ে যেকোনো জায়গা থেকে জমা করা যায়।
- অন্যান্য সুবিধাঃ অ্যাকাউন্ট খোলার পর ডিপোজিট কার্ড পাবেন, স্ট্যান্ডিং ইনস্ট্রাকশন দিয়ে অন্য অ্যাকাউন্ট থেকে অটো কাটাও সম্ভব। মেয়াদ শেষে টাকা একবারে বা কিস্তিতে তুলতে পারবেন।
এখন লাভের হারের ব্যাপারটা একটু আলাদা। এটা ফিক্সড সুদ নয়, বরং প্রভিশনাল
মুনাফা হার যা বছরে দুবার হিসাব করে দেয়া হয় এবং শেষে ফাইনাল রেট
অনুযায়ী অ্যাডজাস্ট হয়। ২০২৬ সালের শুরুর হিসাব অনুসারে (১ জানুয়ারি
থেকে কার্যকর) মোটামুটি এরকমঃ
- ৩ বছর মেয়াদঃ প্রায় ৬.৭৫% মুনাফা হার।
- ৫ বছর মেয়াদঃ প্রায় ৭.২৫% মুনাফা হার।
- ১০ বছর মেয়াদঃ প্রায় ৭.৭৫% মুনাফা হার।
মনে রাখবেন, এই হারগুলো পরিবর্তনশীল এবং ব্যাংকের বিনিয়োগ আয়ের ওপর
নির্ভর করে। সরকারি নিয়ম অনুসারে আয়কর কাটা হয় (সাধারণত ১০% যদি টিন
থাকে)। যদি আগে বন্ধ করেন তাহলে লাভ কমে যায়, সাধারণ সেভিংস অ্যাকাউন্টের
হারে পাবেন। সবচেয়ে ভালো হয় নিকটস্থ শাখায় গিয়ে বা অফিসিয়াল অ্যাপ চেক
করে সর্বশেষ তথ্য নেয়া, কারণ ছোটখাটো আপডেট আসতেই পারে। এভাবে পরিকল্পনা
করে জমা করলে ভবিষ্যতের জন্য একটা ভালো সঞ্চয় হয়ে যায়।
ইসলামী ব্যাংকের মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস (পেনশন) অ্যাকাউন্ট কী?
আসলে আমরা যেটাকে সাধারণভাবে ডিপিএস বলে ডাকি, ইসলামী ব্যাংকে তার আসল
নাম হলো মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা পেনশন অ্যাকাউন্ট। এটা
মূলত একটা মাসিক সঞ্চয়ের স্কিম, যেখানে আপনি প্রতি মাসে একটা নির্দিষ্ট
পরিমাণ টাকা জমা দেন। ব্যাংক সেই টাকা শরিয়াহ অনুসারে বিভিন্ন হালাল
ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ করে মুনাফা অর্জন করে। মেয়াদ শেষ হলে আপনি শুধু
আপনার জমানো মূল টাকাই নয়, সেই সাথে ব্যাংকের অর্জিত মুনাফাও ফেরত পেয়ে
যান। এটা দেখতে অনেকটা পেনশন স্কিমের মতোই।
আরো পড়ুনঃ
বাংলাদেশী ব্যাংক একাউন্ট বন্ধ করার নিয়ম
ভবিষ্যতে একসাথে বড় অঙ্কের টাকা হাতে পাওয়ার জন্য এই অ্যাকাউন্ট খোলেন
অনেকে। কেউ বিয়ে-শাদির খরচ, কেউ সন্তানের লেখাপড়া, আবার কেউ বাড়ি বা জমি
কেনার পরিকল্পনায় এটাকে ব্যবহার করেন। সবচেয়ে ভালো দিক হলো, এখানে কোনো
সুদের লেনদেন নেই-পুরোটাই মুনাফাভিত্তিক এবং শরিয়াহ মেনে চলে। তাই যারা
ধর্মীয় দিক থেকে সচেতন, তারা এই অ্যাকাউন্টটাকে বেশি পছন্দ করেন।
ডিপিএস খোলার জন্য কী কী যোগ্যতা ও কাগজপত্র লাগবে?
ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস খোলার নিয়ম ও লাভের হার জানতে গেলে অনেকেই প্রথমে
জিজ্ঞাসা করেন যে আসলে এই ডিপিএস খোলার জন্য কী কী যোগ্যতা আর কাগজপত্র
লাগবে। সত্যি কথা বলতে কি, প্রক্রিয়াটা খুবই সোজা এবং সাধারণ মানুষের
জন্য তৈরি করা। যেকোনো বাংলাদেশী নাগরিক যিনি ১৮ বছরের বেশি বয়সী, তিনি
সহজেই এই অ্যাকাউন্ট খুলতে পারবেন। এর জন্য কোনো বিশেষ চাকরি বা বড়
অঙ্কের টাকা জমা দেওয়ার শর্ত নেই, শুধু আপনার নিয়মিত সঞ্চয়ের ইচ্ছাটাই
যথেষ্ট। অনেকে ভাবেন হয়তো ব্যাংকের কোনো অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে বা অনেক
কাগজ জমা দিতে হবে, কিন্তু আসলে তেমন কিছু নয়।
কাগজপত্রের তালিকাটাও খুব সংক্ষিপ্ত। দুই কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, জাতীয়
পরিচয়পত্রের কপি আর নমিনির পুরো তথ্য লাগবে, যেখানে নমিনিরও একটা ছবি এবং
সইসহ বিবরণ দিতে হয়। যদি আপনি কোনো নাবালকের নামে অ্যাকাউন্ট খুলতে চান
তাহলে তার অভিভাবকের কাগজপত্রও যোগ করতে হবে। এছাড়া ব্যাংকের ফর্মটা পূরণ
করে দিলেই হয়, কোনো জটিল কাগজপত্রের ঝামেলা নেই। আমি দেখেছি অনেকে শাখায়
গিয়ে মাত্র কুড়ি-পঁচিশ মিনিটের মধ্যেই সব সেরে ফেলেন, তাই চিন্তা না করে
আপনার সুবিধামতো যেকোনো শাখায় চলে যেতে পারেন।
মাসিক কিস্তির পরিমাণ এবং মেয়াদ কত হতে পারে?
ডিপিএস খুলতে গেলে সবার মনে প্রথম যে প্রশ্নটা আসে তা হলো প্রতি মাসে কত
টাকা কিস্তি দিতে হবে আর কয় বছরের জন্য জমাতে হবে। ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস
খোলার নিয়ম ও লাভের হার জানার সময় এই দুটি বিষয় সবচেয়ে বেশি
গুরুত্বপূর্ণ। ইসলামী ব্যাংকের এই স্কিমে মাসিক কিস্তি দেওয়ার ব্যাপারে
বেশ নমনীয়তা রাখা হয়েছে। সর্বনিম্ন ৫০০ টাকা থেকে শুরু করে আপনি ১০০০,
২০০০, ৫০০০ বা তারও বেশি যেকোনো পরিমাণে কিস্তি নির্ধারণ করতে পারবেন,
যতক্ষণ না সেটা ৫০০ টাকার গুণিতক হয়।
মেয়াদের জন্য তিনটি অপশন আছে-৩ বছর, ৫ বছর এবং ১০ বছর। আপনার মাসিক আয়,
ভবিষ্যতের লক্ষ্য এবং সামর্থ্য অনুযায়ী আপনি সবচেয়ে উপযুক্ত মেয়াদ বেছে
নিতে পারেন। যারা তুলনামূলক কম সময়ে টাকা জমাতে চান তারা ৩ বছরেরটা নেন,
আর যারা দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় চান তারা ১০ বছরের অপশন পছন্দ করেন।
২০২৬ সালে ইসলামী ব্যাংক ডিপিএস-এ লাভের হার কেমন?
২০২৬ সালে ইসলামী ব্যাংকের ডিপিএস বা মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস (পেনশন)
অ্যাকাউন্টের মুনাফার হার বেশ যুক্তিসঙ্গত রাখা হয়েছে। ব্যাংকের প্রকাশিত
প্রভিশনাল রেট অনুযায়ী, ১ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে কার্যকর হিসেবে ৩ বছর
মেয়াদের জন্য ৬.৭৫%, ৫ বছরের জন্য ৭.২৫% এবং ১০ বছরের জন্য ৭.৭৫% মুনাফা
দেওয়া হচ্ছে। এ ছাড়া ৭ বছর মেয়াদে ৭.৫০% এবং আরও লম্বা মেয়াদে সামান্য
বেশি হারও পাওয়া যায়। এই হারগুলো একেবারে ফিক্সড নয়, কারণ পুরো স্কিমটা
মুদারাবা নীতিতে চলে।
আরো পড়ুনঃ
ব্যাংক লোন পাওয়ার জন্য অনলাইন ফর্ম পূরণ
ব্যাংক আপনার টাকা হালাল বিনিয়োগে লাগিয়ে যে আয় করে, তার একটা অংশ
(সাধারণত ৬৫% এর বেশি) আপনাকে মুনাফা হিসেবে দেয়। প্রতি ছয় মাস অন্তর
প্রভিশনাল মুনাফা দেওয়া হয়, আর বছর শেষে ফাইনাল হিসাব করে অতিরিক্ত যা
থাকে তা যোগ করে দেওয়া হয়। তাই সঠিক পরিমাণ জানতে চাইলে নিকটস্থ শাখায় বা
ব্যাংকের ওয়েবসাইটে একবার চেক করে নেওয়াই ভালো, কারণ বাজারের অবস্থা
অনুযায়ী সামান্য পরিবর্তন হতে পারে।
মেয়াদ শেষে কত টাকা পাবেন-কিছু উদাহরণসহ হিসাব
মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার পর আপনি আসলে কত টাকা হাতে পাবেন সেটা অনেকেই জানতে
চান। হিসাবটা একদম সোজা নয়, কারণ এটা আপনার মাসিক কিস্তি আর মেয়াদের
উপর অনেকখানি নির্ভর করে। ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস খোলার নিয়ম ও লাভের
হার দেখে অনেকে দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। তবে মনে
রাখবেন, এই হিসাবগুলো আনুমানিক, কারণ মুনাফার হার প্রভিশনাল এবং
বাজারের অবস্থার সাথে সামান্য ওঠানামা করতে পারে। উদাহরণ দিয়ে বলি,
ধরুন আপনি প্রতি মাসে ১,০০০ টাকা কিস্তি দিয়ে ৫ বছরের ডিপিএস খুললেন।
এতে মোট জমা হবে ৬০,০০০ টাকা। বর্তমান মুনাফা হার অনুযায়ী মেয়াদ শেষে
আপনি পেতে পারেন আনুমানিক ৭৩,০০০ থেকে ৭৫,০০০ টাকার মতো। আবার যদি ১০
বছরের মেয়াদে একই ১,০০০ টাকা কিস্তি দেন, তাহলে মূল জমা হবে ১,২০,০০০
টাকা এবং মুনাফাসহ মোট অ্যামাউন্ট দাঁড়াতে পারে প্রায় ১,৭০,০০০ থেকে
১,৮০,০০০ টাকা পর্যন্ত। বড় কিস্তি দিলে লাভের পরিমাণ আরও বেশি হয়। সঠিক
ও আপডেটেড হিসাবের জন্য অবশ্যই ব্যাংকের শাখায় বা তাদের অফিসিয়াল
ক্যালকুলেটরে চেক করে নিন।
আগেভাগে টাকা তুললে কী নিয়ম?
অনেক সময় হঠাৎ করে জরুরি দরকার পড়ে গেলে মানুষ ডিপিএসের মেয়াদ শেষ
হওয়ার আগেই টাকা তুলতে চায়। ইসলামী ব্যাংকে এটা একেবারে অসম্ভব নয়, তবে
মুনাফার ক্ষেত্রে বেশ কিছু কাটতি হয়। সাধারণত এক বছর পূর্ণ হওয়ার আগে
অ্যাকাউন্ট ভাঙলে খুব সামান্য বা একেবারেই কোনো মুনাফা পাওয়া যায় না।
আর এক বছরের পর তুললে মুদারাবা সেভিংস অ্যাকাউন্টের হার অনুযায়ী মুনাফা
দেওয়া হয়, যা পুরো মেয়াদের মুনাফার চেয়ে অনেক কম। তাই আগে থেকেই ভালো
করে ভেবেচিন্তে কিস্তির পরিমাণ আর মেয়াদ ঠিক করা উচিত, যাতে মাঝপথে
ভাঙাতে না হয়।
ঘরে বসে সেলফিন অ্যাপে ডিপিএস খোলার উপায়
এখনকার সময়ে ব্যাংকের শাখায় গিয়ে লাইন ধরার আর দরকার নেই। ইসলামী
ব্যাংকের সেলফিন অ্যাপটা ব্যবহার করলে আপনি পুরোপুরি ঘরে বসে মাত্র কয়েক
মিনিটে ডিপিএস অ্যাকাউন্ট খুলে ফেলতে পারবেন। অ্যাপটা খুব সহজবোধ্য, তাই
যদি আপনার ফোনে ইন্টারনেট থাকে আর জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি রেডি থাকে তাহলে
কোনো ঝামেলা ছাড়াই সব হয়ে যায়। অনেকে প্রথমবার একটু সন্দেহ করে, কিন্তু
একবার চেষ্টা করলে দেখবেন এটাই সবচেয়ে সুবিধাজনক উপায়।
অ্যাপ খুলে আপনার ইসলামী ব্যাংক অ্যাকাউন্ট দিয়ে লগইন করুন। তারপর
ডিপোজিট বা সেভিংস প্রোডাক্ট সেকশনে গিয়ে মুদারাবা স্পেশাল সেভিংস অপশন
বেছে নিন। ইসলামী ব্যাংকে ডিপিএস খোলার নিয়ম ও লাভের হার দেখে নিয়ে ছবি
আপলোড করে নমিনির তথ্য দিয়ে সাবমিট করলেই অ্যাকাউন্ট চালু হয়ে যাবে।
ইসলামী ব্যাংক ডিপিএস-এর সুবিধাগুলো কী কী?
ইসলামী ব্যাংকের ডিপিএসের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটা পুরোপুরি শরিয়াহ
অনুসারে চলে। এখানে কোনো সুদ নেই, ব্যাংক আপনার জমানো টাকা হালাল
ব্যবসা-বাণিজ্যে বিনিয়োগ করে যে মুনাফা করে সেটাই আপনাকে ভাগ করে দেয়।
তাই যারা ধর্মীয় কারণে সুদ এড়িয়ে চলতে চান, তাদের জন্য এটা একদম
নিশ্চিন্ত অপশন। টাকা একেবারে নিরাপদ, কারণ এটা ব্যাংকের আওতায় থাকে এবং
মেয়াদ শেষে মূল টাকার সাথে মুনাফা একসাথে ফেরত পাওয়া যায়। মুনাফার হারও
বাজারের তুলনায় যথেষ্ট আকর্ষণীয়, যা অনেকের কাছে বাড়তি আকর্ষণ।
এছাড়া সেলফিন অ্যাপ দিয়ে পুরো অ্যাকাউন্ট ম্যানেজ করা যায়, নমিনি রাখার
সুবিধা আছে, আর নিয়মিত কিস্তি দেওয়ার কারণে সঞ্চয়ের একটা ভালো অভ্যাসও
গড়ে ওঠে। অনেকে বিয়ে-শাদি, সন্তানের লেখাপড়া বা বাড়ি কেনার মতো বড় খরচের
জন্য এটাকে বেছে নেন, কারণ মেয়াদ শেষে এক লাখের উপরে টাকা হাতে আসে। সব
মিলিয়ে ঝামেলা কম, লাভ বেশি আর মনের শান্তি পাওয়া যায়।
শেষ কথাঃ লেখকের মন্তব্য
সবকিছু মিলিয়ে বলতে গেলে, ইসলামী ব্যাংকের ডিপিএস যারা নিয়মিত সঞ্চয় করতে চান এবং
শরিয়াহসম্মত উপায়ে টাকা বাড়াতে আগ্রহী, তাদের জন্য বেশ ভালো একটা অপশন। এটা শুধু
টাকা জমানোর স্কিম নয়, বরং একটা সুস্থ অভ্যাসও গড়ে তোলে যা ভবিষ্যতে বড় কোনো
খরচের সময় সত্যিই সাহায্য করে। আমি নিজে অনেকের সাথে কথা বলে দেখেছি, যারা এটা
করেছেন তারা মনে করে এতে মনের শান্তি পাওয়া যায়।
আশা করি এই লেখাটা পড়ে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর মিলেছে। যদি আরও কিছু জানতে চান
বা কোনো সন্দেহ থাকে, তাহলে নির্দ্বিধায় কমেন্ট করুন কিংবা নিকটস্থ শাখায় গিয়ে
কথা বলুন। সঞ্চয় করুন, স্মার্টভাবে এগোন আর ভবিষ্যতকে আরও সুন্দর করে তুলুন। মনে
রাখবেন, সব তথ্য ২০২৬ সালের সাম্প্রতিক হিসেব অনুসারে দেওয়া, তাই চূড়ান্ত
সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই ব্যাংকের অফিসিয়াল সোর্স থেকে যাচাই করে নিন। 260416




















